বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
Single Page Top Banner

‘৪৫ হাজারই বিএনপির ভোট, ২ মাসে হারানো ভোট ফিরিয়ে আনা সম্ভব 

মিরসরাই আসনে ৮৪,৫৩৮ জামায়াতের  ভোটের বিশ্লেষণ দিলেন এমপি নুরুল আমিন:

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিরসরাই আসনে প্রাপ্ত ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোটের বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেছেন, “এই ভোটের বড় অংশই বিএনপির নিজস্ব ভোট। নানা কারণেই ভোটের একটি অংশ অন্য বাক্সে গেছে। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে দুই মাসের মধ্যে সে ভোটগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে।”
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বারইয়ারহাট প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে নির্বাচন-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নুরুল আমিন বলেন, “মিরসরাই আসনে জামায়াত  যে ৮৪,৫৩৮ ভোট পেয়েছে , এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ভোট  জান্নজ – জাহান্নাম বলে  অপ্রচারের কারণে মহিলা বিএনপির ভোট, ৫ আগস্টের পর বিএনপির নামে অপকর্মের কারণে ১০ হাজার ভোট, দলের ভেতরে নামকাওয়াস্তে কাজ করা কিছু মুনাফেকির কারণে ১০ হাজার ভোট এবং বিভিন্ন গুজবের কারণে ১০ হাজার ভোট অন্যত্র গেছে। এছাড়া পোস্টাল ভোট রয়েছে প্রায় ৫ হাজার। অর্থাৎ মোট ৪৫ হাজার ভোটই বিএনপির নিজস্ব ভোট। জামায়াতের স্বাভাবিক ভোট পাওয়ার কথা ৪০ হাজারের মতো।”
তিনি আরও বলেন, “ভোট শেষ হয়েছে বলে বিশ্রাম নিলে হবে না। বিএনপির বদনামের কারণে যে ভোট অন্য বাক্সে চলে গেছে, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যমে আগামী দুই মাসের মধ্যে সে ভোটগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে।”
সভায় বক্তব্যের শুরুতেই নিজের জন্য আলাদা বড় চেয়ার না রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আমার জন্য দলীয় ফোরামে আলাদা কোনো বড় চেয়ার রাখবেন না। সিনিয়র নেতাদের জন্য যে চেয়ার থাকবে, একই চেয়ারই আমাকে দেবেন। বড় চেয়ার মানুষের অন্তরে অহংকার আনতে পারে।” এ বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে সাধুবাদ জানান।
দলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় অফিস খোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপির অফিস নাম দিয়ে অপ্রয়োজনীয় চাঁদাবাজির দোকান বন্ধ করতে হবে। এসব অফিস দিয়ে দলের কোনো লাভ হয় না।” ব্যক্তিগত নামে ইউনিয়ন ও হাট-বাজারে খোলা অফিস দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে অনেকের অফিসে আমার ছবি দেখেছি। কারও অফিসে আমার ছবি রাখবেন না। আমার ছবি দিয়ে দোকানদারি বন্ধ করুন। আমি কারও থেকে কমিশন নেই না এবং অপকর্মের দায় নেব না।”
তিনি বলেন, দলীয় অফিসে শুধুমাত্র দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর ছবি থাকবে।
নির্বাচন-পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে নুরুল আমিন বলেন, “মিরসরাইকে মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি কেউ করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এসব বন্ধ করতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে সহিংসতা হবে—এমন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন আগে ও পরে মিরসরাইসহ কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।”
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় এবং আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত